ভাতের মাড়ের উপকারিতা
ভাতের মাড়ের উপকারিতা যদি আপনি জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আপনি নিশ্চয়ই সাস্থসচেতন একজন মানুষ। তাই না? কে না চায় সুস্থ এবং সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে? যদি আপনিও চান যে আপনার জীবন সুন্দর ও সাস্থময় হয়ে উঠুক তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য।
কথাই আছে না? মাছে ভাতে বাঙালি। এই কথাটি আসলেই সত্য। আমরা যারা বাঙালি আছি তারা হয়তো ভাত ছাড়া আমাদের একটা দিন ও কল্পনা করতে পারিনা । শুধু তাই নয় , আমরা বাঙ্গালিরা প্রতি বেলাই ভাত খেয়ে থাকতে পারি। ভাত যেমন আমাদের জন্য উপকারি তেমনি ভাতের মাড়ের উপকারিতা ও অনেক। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হলে পুরো পোস্টটি পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ভাতের মাড়ের উপকারিতা
- ভাতের মাড়ের উপকারিতা
- ভাত খেলে কি কি হয়
- কতটুকু ভাত খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য উপকারী
- ভাত খাওয়ার পরে ঘুম আসে কেন
- ভাতে কি ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায়
- ভাত রান্না করার নিয়ম
- ভাতের মাড় না ফেলে রান্না করার উপায়
ভাতের মাড়ের উপকারিতা
ভাত বাঙালি মানুষের একটি আবেগের জায়গা। এটি ছাড়া বেঁচে থাকা একটি বাঙালির জন্য
খুবই কষ্টকর বিষয়। নিজের কথায় ভাবুন আপনি যদি সারাদিন এই অনেক কিছুই খেয়ে
থাকেন, কিন্তু একবারও ভাত না খান, তাহলে আপনার মনে হতে পারে যে আপনি কিছু
একটা খান নি বা আপনার খাওয়াই হয়নি।
সারাদিনে অনেক খাবার খেলেও মনে হয় যেন ভাত ছাড়া প্রশান্তি নেই। তাই বাঙালি
কে বলা হয়, '' মাছে ভাতে বাঙালি'' । এটি বাঙালিদের একটি আলাদা পরিচয়।
বাঙালিরা দিনে তিন বেলা ভাত খেতে পারে।
ভাত বিভিন্নভাবে রান্না করা যায়। তার মধ্যে কিছু হল পানি ঝরিয়ে ঝরঝরে করে
রান্না করা ভাত, পানি না ফেলে অর্থাৎ মারসহ রান্না করা ভাত, ভাতের সাথে
ডাল মিশিয়ে রান্না করা খিচুড়ি, চাল দিয়ে তৈরি ভাত খেয়ে বিভিন্ন ভাবে
প্রসেস করে তাতে মসলা ও মাংস দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন
বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি, পোলাও ইত্যাদি।
যেভাবেই হোক না কেন, মসলা মিশিয়ে মসলা ছাড়্ বাঙালি ভাত ছাড়া বেঁচে থাকতে
পারে না। এই সবগুলো খাবার মুখরোচক হলেও, এগুলোর মধ্যে মাড় সহ
ভাত সবচেয়ে বেশি উপকারী। কেন না ভাতের মাড়ের উপকারিতা অনেক
বেশি।
আমরা সচরাচর ভাত রান্না করার পরে ভাতের মাড় ফেলে দিয়ে থাকি। হয়তো
আমরা জানিও না যে আমরা কত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস ফেলে
দিচ্ছি। ভাত রান্নার পরে ভাতের মাড় ফেলে দিলে ভাতের বেশিরভাগ
পুষ্টি গুনাগুন পানির সাথে চলে যায়।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে,ভাতের মাড় আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এতে যেমন
ভাতকে নরম রাখে, তেমনি এটি আমাদের হজমে সাহায্য করে থাকে। এটাই আমাদের
শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। ভাতের মার আমাদের শরীর এবং ত্বককে
চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের শরীর গঠনে যেসব ভিটামিন এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সাহায্য করে থাকে সেগুলোর
মধ্যে অন্যতম কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন ই সহ আরো বেশ
কিছু কার্যকরী উপাদান ভাতের মাড় পাওয়া যায়। এটি আমাদের চুলের সৌন্দর্য
বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ভাতের মাড় অথবা ভাত কে মিহি করে পেস্ট করে
এটির সাথে ডিম মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল হয় মসৃণ ও সুন্দর। সেই সাথে
এটি চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে থাকে।
একে প্রাকৃতিক টোনার ও বলা হয়ে থাকে। কেননা এটি আমাদের ত্বককে সুন্দর করে
, সেই সাথে ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে
একটি তুলোর সাহায্যে যদি ভাতের মার সারা মুখে লাগিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া হয় তাহলে
সকালবেলা উঠে মুখ ধুলে মুখ পরিষ্কার এবং সুন্দর হয়ে যায়।
এছাড়াও এটি আমাদের ডায়রিয়া হলে কাজে দেয়। ডায়রিয়া হলে যেহেতু কোন শক্ত
খাবার খাওয়া যায় না সেহেতু এটি তখন খেলে শক্তি পাওয়া যায়। এটি
আমাদের শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করতে সাহায্য করে।
ভাত খেলে কি কি হয়
আপনি কি ধারণা করেন ভাত খেলে মানুষ শুধু মোটা হয়? ভাতে কোন পুষ্টি গুনাগুন নেই
এটি একটি অপকারী খাদ্য। যদি এটি ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবছেন! জানতে
হলে পড়তে থাকুন।
ভাত মূলত এমন একটি খাবার যেটি চাল থেকে তৈরি করা হয়। আমাদের গ্রামের
কৃষকেরা জমিতে সারা বছর কষ্ট করে ধান চাষ করে। সেই ধান থেকে তৈরি হয়
চাল, আর চাল থেকে ভাত। দীর্ঘ কয়েক মাসের পরে ধান ঘরে ওঠার
পরে, কৃষকেরা ধান থেকে চাল তৈরি করে সেগুলো বাজারে বিক্রি করে। সেই চাল
ঘরে নিয়ে আমরা ভাত তৈরি করে থাকি।
এটি একটি দীর্ঘ সময়ের তৈরি হলেও আমাদের বাঙ্গালীদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। সেই
সাথে এটি চাষ করা ও আমাদের জন্য সহজ এবং আমাদের দেশের সাথে
সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধান চাষের দিক থেকে বাংলাদেশে অনেক বেশি এগিয়ে। ধান
চাষ করা সহ এটি বিদেশে রপ্তানিও করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধান চাষ হয়ে থাকে, এক একটি চালের ভাতের সাধ এক এক
রকম। তবে বড় ধরনের সাধের ভিন্নতা পাওয়া যায় না। । ভাতের
জনপ্রিয় তারা দিন দিন বেড়েই চলেছে এটি আমাদের দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি
করা হয়, যার কারণে এটি সারা বিশ্বের জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ভাত একটি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি আমাদের শরীরে দ্রুত হজম হতে সাহায্য
করে। যেহেতু এটি দ্রুত হজম হয়ে যায় সেহেতু এটি থেকে শরীরে চর্বি জমার কোন
কারণ নেই বরং এটি দ্রুত হজম হয়ে যাওয়ায় আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ
প্রতিরোধ করে থাকে।
এটি শর্করা জাতীয় খাবার হওয়ায় মানুষ শুরুতেই ধরে নেয় এটি আমাদের
জন্য উপকারী। কিন্তু মোটেই নয়! ভাত আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের
পুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে। এটি আমাদের শরীরে শক্তি যোগায় এবং খাবার
হজমের সাহায্য করে। ভাত খেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
দিনে অন্তত এক কাপ ভাত আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এক কাপ ভাতের সঙ্গে
বিভিন্ন সবচেয়ে মিশ্রিত তরকারি, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করে খেলে শরীর
সুস্থ থাকবে। আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীর সুস্থ রাখতে হলে ভাতের প্রয়োজনীয়তা
অনেক।
যেকোন খাবার অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সেটা হোক শর্করা বা হোক
প্রোটিন। তাই আমাদেরকে খাবার সময় পরিমাপ বুঝে খেতে হবে। কেননা
অতিরিক্ত শর্করা বা অতিরিক্ত ভাত খেলে শরীরে চর্বি জমবে এবং রক্তের
কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাবে। তাই সাবধান!
কতটুকু ভাত খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য উপকারী
- বয়স বিবেচনা করেঃ বয়সের উপর নির্ভর করে ভাত খাওয়ার পরিমাণ নির্ভর করে। একজন মানুষের বয়স যদি হয় পাঁচ বছরের কম তাহলে তার শরীরে ভাতের প্রয়োজনীয়তা ও অনেক কম হবে। কিন্তু সেই তুলনায় বড়দের ভাতের প্রয়োজনীয়তা বেশি। তাই শিশুদেরকে জোরজবরদস্তি করে অতিরিক্ত ভাত খাওয়ানোর কোন প্রয়োজন নেই।
- লিঙ্গ বিবেচনা করেঃ একজন মানুষ যদি পুরুষ হয়ে থাকে তাহলে তার ভাতের প্রয়োজনীয়তা নারীর চেয়ে বেশি। মহিলাদের সাধারণত কম ভাতের প্রয়োজন হয়ে থাকে। কেননা মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মেটাবলিজম ভিন্ন।
- শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেঃ একজন মানুষের যদি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্য কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অন্যান্যদের তুলনায় তার ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। তার শরীরে ভাতের প্রয়োজনীয়তা তেমন নেই। কিন্তু একজন সুস্থ সবল মানুষের প্রতিদিন অন্তত এক কাপ পরিমাণ ভাত খাওয়া উচিত।
- ওজনের ওপর নির্ভর করেঃ বেশি ওজনের মানুষের চেয়ে কম ওজনের মানুষেরা বেশি ভাত খেতে পারবে। কেননা বেশি ওজনের মানুষেরা বেশি ভাত খেলে তার ওজন আরো বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে, কিন্তু সে দিক দিয়ে কম ওজনের মানুষের বিষয়টি ভিন্ন। এমনটি নয় যে তারা বেশি ভাত খেলে সেটি তাদের জন্য উপকারী, বরং তাদের বেশি ভাত খেলে ওজন বৃদ্ধি পাবে না।
- শারীরিক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করেঃ শারীরিক পরিশ্রম যারা বেশি করে থাকে তাদের প্রয়োজনীয়তা বেশি হয়ে থাকে। কেউ যদি কোন ধরনের শারীরিক পরিশ্রম না করে থাকে তাহলে তার বেশি ভাত খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, বরং খেলে এটি তার শরীরে চর্বি বৃদ্ধি করবে এবং সেই সাথে ওজন বাড়াবে। তবে যদি একটি মানুষ দিনে কয়েক ঘন্টা অন্তত শারীরিক পরিশ্রম করে থাকে তাহলে তার ভাতের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা বেশি।
ভাত খাওয়ার পরে ঘুম আসে কেন
ভাত রান্না করার নিয়ম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাত এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ভাত
রান্নার পদ্ধতি ও এক এক জায়গায় একেক রকম। তবে ভাতের পুষ্টিগুণ সর্বোচ্চ
রেখে ভাতের ফেনা বা মাড় না ফেলে রান্না করা সবচেয়ে উত্তম।
কেননা এইভাবে ভাত রান্না করলে ভাতের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
তবে আমাদের দেশের মানুষেরা এইভাবে ভাত খাওয়ার চাইতে ভাতের ফেনা বা পানি ফেলে
দিয়ে খেয়ে থাকে। ভাতের ফেনা ফেলে ভাত রান্না করলে ভাত বেশি ঝরঝরে
হয়। এই পদ্ধতিতে ভাত রান্না করতে হলে চালের দ্বিগুনেরও বেশি পরিমাণে পানি
দিতে হবে এবং চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে অতিরিক্ত পানি ছেঁকে ফেলে দিতে হবে।
ভাতের মাড় না ফেলে রান্না করার উপায়
রাইস কুকারে ভাত রান্না করলে ভাতের ফেনা বা ভাতের মাড় ফেলার কোন প্রয়োজন হয়
না। এছাড়াও হাড়িতে রান্না করলেও ভাতের মাড় না ফেলে রান্না করলে
সেটা সবচেয়ে বেশি উপকারী হয়। ভাতের ফেনা না ফেলে রান্না করতে চাইলে
চালের দ্বিগুন পরিমাণ পানি দিয়ে রান্না করলে সেটি একদম ঠিকঠাক হয়।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url