বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস সারা বাংলাদেশে তোমার মাসের ১৪ তারিখ পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।  

বিশ্ব-ডায়াবেটিস-দিবস

আপনার পরিবারে কি কেউ না কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত? কেননা বর্তমানে প্রতিটি ঘরে ঘরেই ডায়াবেটিস রোগীদের দেখা যায়৷ যদি বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য।  চলুন তবে শুরু করা যাক।  

পোস্ট সূচীপত্র :  বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

  • বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
  • বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস কবে পালিত হয় 
  • কেন ১৪ নভেম্বর ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয় 
  • ডায়াবেটিস রোগটি কেমন 
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করণীয় 
  • কখন মানুষদের ডায়াবেটিস বেশি হতে পারে 
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের ডায়েট চার্ট 
  • বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস সম্পর্কে দেশের চিন্তা কি 
  • বিশ্বে ডায়াবেটিসের হার কমানোর উপায় 
  • ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিনের রুটিন 

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হলেও মূলত এমন একটি জটিল অবস্থা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ কম থাকায় রে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পায়, এর ফলে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের সৃষ্টি হয়।  

এ রোগ হলে রোগীর ঘন ঘন প্রস্রাব লাগে,ঘনঘন ক্ষুধা পায় ও অনেক বেশি তৃষ্ণা পায়। ডায়াবেটিস রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা না করলে জীবনের ঝুঁকি হতে পারে।  কেননা ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগটির উপসর্গ  কম দেখা দিলেও ভেতরে ভেতরে খুবই গুরুতর। 

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হল সময় ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য একটি ক্যাম্পেইন। সারা বিশ্বে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন একটি দিন ঠিক করে যে দিনে ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য ক্যাম্পেইন করা হয়। এই দিনটি হলো ১৪ নভেম্বর।  

চৌদ্দ নভেম্বর কে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালন করার বেশ কিছু কারণ রয়েছে, এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো ইনসুলিন তৈরি কারী বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানে চার্লস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত হয়ে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন এবং ফ্রেডরিকের জন্ম হয় ১৪ই নভেম্বর।  

যার ফলে এই দিনটিকে ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে করা হয় এবং সারা বিশ্বে পালিত হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণভাবে জীবন যাপন করতে পারে না।তাদের চলাফেরা, খাদ্যাভ্যাস,বসবাস সকল কিছুতেই আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়।   

দিবস নিয়ে সকলের কৌতুহলের শেষ নেই!  এই দিনটি আমাদের ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে থাকে। এ দিনটিতে ডায়াবেটিস রোগীদের সচেতনতা  বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস কবে পালিত হয়

ডায়াবেটিস!  নামটি মানুষের কাছে একটি আতঙ্ক।  কেননা পৃথিবীতে এই রোগটি যত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে  অন্যান্য রোগ গুলো সেই হারে বাড়ছে না। যার ফলে মানুষেরই ডায়াবেটিস ধরা পড়ছে।  ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করাও বেশ কঠিন।  
আপনার পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক বা চল্লিশ উর্ধ্ব থেকে থাকে তাহলে তাদের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
কেননা এখন বর্তমানে যে কোন মানুষেরই ডায়াবেটিস হতে পারে। একবার ডায়াবেটিস ধরা পড়লে সেটি নিয়ন্ত্রণে আমরা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়।  
বিশ্ব ডায়াবেটিক ফেডারেশন ১৪ই নভেম্বরকে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।  সেই সাথে সারা বিশ্বে এটি পালিত হয়।  এটি মূলত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি ক্যাম্পেইন। যেখানে ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা হয়ে থাকে।  
এই দিনটিকে বেছে নেওয়ার কারণ এই দিনে ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয়েছিল রোগীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিশোধক। ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হল মূলত রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া ইনসুলিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া।  এই অবস্থায় শরীরে যেহেতু ইনসুলিনের ঘাটতি থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন নিশ্চিত করতে পারে না তাই রোগীকে বাইরে থেকে ইনসুলিন নিতে হয়।  সেই সাথে রোগীকে গ্লুকোজ  বৃদ্ধি পাবে এরকম জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়।  
এছাড়াও একজন বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগীকে নিয়মিত হাঁটতে হবে এবং সেই সাথে খাবার পরিমাণ  মতো খেতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুতই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে। 
বিশ্ব-ডায়াবেটিস-দিবস


কেন ১৪ নভেম্বর ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয় 

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস দিনটি পালিত হয় ১৪ই নভেম্বর। সারা বিশ্বে এটি একই দিনে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি বেছে নেওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে।  এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইনসুলিন আবিষ্কার।
ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয় ১৯২২ সালে চার্লস বেস্ট এবং ফ্রেডরিক বেন্টিং এর মাধ্যমে। ফ্রেডরিক পেইন্টিং মূলত একত্রে মিলে গবেষণা করেন এবং ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।  ১৪ ই নভেম্বর ফেব্রিক বেন্টিং এর জন্মদিবস হওয়ার কারণে এই দিনটিকে বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।  এরপর থেকেই প্রতি বছর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  

ডায়াবেটিস রোগটি কেমন 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এমন একটি রোগ নিরাময় করা সম্ভব নয়, কিন্তু এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়।  ডায়াবেটিস রোগটি বর্তমানে বিশ্বে মহামারীর আকার ধারণ করেছে।  বিশ্বের প্রতিটি ঘরে ঘরে এই রোগটি দেখা যায়।  ডায়াবেটিস বহুমূত্র রোগ বাংলাদেশী ও অনেক বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের পরিবারে অন্তত কখনো একজনের ডায়াবেটিস হয়েছিল এমন রোগী থাকলে পরবর্তী জেনারেশনের জন্য ডায়াবেটিস হুমকি স্বরূপ।  
ডায়াবেটিসের বেশ কয়েকটি ধরণ দেখা যায়৷ সেগুলো হলো: 
টাইপ ১ ডায়াবেটিস : এই রোগ হলে শরীরে ইনসুলিন একদমই নিঃসৃত হয় না।  শরীরে অগ্নাশয় এর ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এই রোগটি সাধারণত তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।   এই রোগটি ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে যেকোনো কারোর হতে পারে। এ রোগ হলে ইনসুলিন পাম্প করে নিতে হয় বা ইনসুলিন শরীরে প্রবেশ করাতে হয়। তাছাড়া রোগী খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং মৃত্যুর আশঙ্কা হতে পারে।  
টাইপ টু ডায়াবেটিস: এ ধরনের ডায়াবেটিসের রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন মিশ্রিত হয় কিন্তু সেটি খুবই অল্প পরিমাণে।  যে পরিমাণ ইনসুলিন শরীরে প্রয়োজন সেই পরিমাণ এর চেয়ে খুবই অল্প পরিমাণে ইনসুলিন মিশ্রিত হলে তাকে টাইপ টু ডায়াবেটিস বলা হয়ে থাকে।  এই রোগটি ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের হতে পারে। 
এই রোগটি হওয়ার কারণ মূলত স্থুল হওয়া।  খাদ্যাভ্যাস এর পরিবর্তন করে এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করে এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকা,  স্বাস্থ্যকর ভাবে জীবন যাপন করার মাধ্যমে এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য করণীয় 

বিশ্বে বর্তমানে ডায়াবেটিস তিন দিন এমন হারের বৃদ্ধি পাচ্ছে যা তরুণ ধরনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও এটি কোন সংক্রামক রোগ নয়, তবুও এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। বর্তমানে করনার পর থেকে দিন দিন মানুষের মধ্যে এনার্জি সংক্রমণ যেমন বেড়েছে তেমনি ডায়াবেটিসের পরিমাণও তরুণ তরুণদের মধ্যে বেশি  দেখা যাচ্ছে।  
আপনি যদি মনে করে থাকেন যে এটি বয়স্ক লোকেদের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে ভুল ভাবছেন! কারণ বর্তমানে এই রোগটি শুধু বয়স্ক লোকদের জন্যই নয় বরং এটি তরুণ সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ।  এখন অনেকেই প্রি ডায়াবেটিক এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ নিয়ে এর কাছে যেতে দেখা যায়।  এর বেশিরভাগই তরুণ তরুণী।  
তাই এখন থেকেই সাবধান থাকুন! যদি পরিবারের ওর পূর্বে কখনো ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তাহলে তার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার  ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।  কেননা এটি জিনগত রোগের সাথে সামঞ্জস্য করে।  তাই আপনার টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং আপনার ডায়াবেটিস চেক করুন।কারণ এই রোগটি আপনাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেবে।  
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। এগুলো হলো : 
 ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া 
অতিরিক্ত তৃষ্ণা লাগা 
প্রস্রাবের চাপ লেগে ঘুম ভেঙে যাওয়া 
দিনে অতিরিক্ত প্রস্রাব পাওয়া 
শরীর দুর্বল অনুভব করা 
শরীরের ক্ষতস্থানের ঘা না শুকানো 
ফাস্টফুড, কোমল পাণীয় না পান করা 

ওজন কমতে থাকা 
চোখে ঝাপসা দেখা শুরু করা  ইত্যাদি 
বাংলাদেশের ডায়াবেটিসের ৯৭% ই মানুষের টাইপ টু ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।  টাইপ টু ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, তবে এটি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়।  এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার জন্য যা যা করা যেতে পারে সেগুলো হলো: 
প্রতিবেলা ঠিকমতো  খাবার খাওয়া 
অল্প অল্প করে বারে বারে খাবার খাওয়া 
একসাথে বেশি খাবার না খাওয়া 
অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া 
চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা 
আর্সেনিক মুক্ত পানি বেশি বেশি পান করা 
আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়া 
মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা 
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা এবং নিয়মিত ঔষধ খাওয়া।  ইত্যাদি 

কখন মানুষদের ডায়াবেটিস বেশি হতে পারে

বর্তমানে ডায়াবেটিসের রোগী দিন দিন যে হারে বড়ছে তা অনুয়ায়ী অবশ্যই আপনার বছরে একবার হলেও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত। আপনার পরিবারে যদি কেউ কখনো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার জন্য এটি একটি ঝুঁকির বিষয়। দেরি না করে তাই দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করুন।  
মানুষের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে বেশ কিছু কারণে। সেই কারণগুলো চিহ্নিত করে ডায়াবেটিস থেকে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়। যেসব কারণে মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে সেগুলো হলো: 

অসাস্হ্যকর জীবনযাপন 
অতিরিক্ত স্হূলতা
নিয়মিত শরীরচর্চা না করা 
অতিরিক্ত  ধূমপান বা নেশা করা 
পরিবারে পূর্বে কারো ডায়াবেটিস থাকলে তার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি 
উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অনেক সময় ডায়াবেটিস হতে পারে 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের ডায়েট চার্ট 

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র এমন একটি রোগ যেটি থেকে কখনো নিরাময় পাওয়া সম্ভব নয়, তবে এটি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়।বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস এ এসব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন করা হয় 
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ১ ঘন্টা হাঁটা ভালো। হেঁটে আসার পরে খালি পেটে চিয়া সিড ভেজানো পানি খেতে পারে। তার ১ ঘন্টা পরে সকালের নাস্তা হিসেবে ১ টি রুটি এবং সবজি খাওয়া ভালো। তার ২ ঘন্টা পরে কোনো দেশি ফল খাওয়া যেতে পারে। 
দুপুরের খাবার হিসেবে ১ কাপ ভাত, সবজি, মাছ/মাংস/ডিম, সালাদ এসব খাওয়া যাবে। রাতের বেলা খুব তাড়াতাড়ি ভারী খাবার খাওয়া শেষ করতে হবে। 

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস সম্পর্কে দেশের চিন্তা কি

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস সারা দেশে একসাথে একই দিনে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটিতে ডায়াবেটিস নিয়ে স্বাস্থ্যসচেনতা মূলক বিভিন্ন আয়োজন করা হয়ে থাকে। যাতে করে বিশ্বের প্রতিটি দেশের মানুষ ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র নিয়ে সচেতন হয়। 
কারণ এই রোগটি এখন অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।  বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস এ প্রতিটি দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়ে থাকে। যেন মানুষ এটি সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানতে পারে। 
বাংলাদেশও বর্তমানে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। সেই সাথে দেশের সকল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রয়েছে দেশের অনেক ডিগ্রিধারী,  জ্ঞানী ডাক্তার। যারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়ত আছেন। 
আমাদের এই দেশের ৭৫% মানুষের ডায়াবেটিস আছে বলে জানা যায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ স্হূল। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে চাইলে সবার প্রথমে নিজেদের শরীরকে সুন্দর রাখা সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্ব-ডায়াবেটিস-দিবস


বিশ্বে ডায়াবেটিসের হার কমানোর উপায় 

বিশ্বে বর্তমানে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগীর সংখ্যা এতো বেড়ে গিয়েছে যে এটি সম্পর্কে একটি দিবস তৈরী করা হয়েছে।  যেন বিশ্বের সকল মানুষ ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। ডায়াবেটিস আমাদের জন্য বর্তমানে হুমকিস্বরূপ।  
ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর দিকগুলো সামনে থেকে দেখা না গেলেও এটি একটি মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট দেয়। যেটি সারাজীবন ভোগ করতে হয়৷ তার স্বাধীন জীবনযাপন নষ্ট হয়ে যায় এবং জীবনের স্বাদ পায়না।  
আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা বা ডায়াবেটিসের হার কমাতে হলে সকল মানুষকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। প্রতিটি মানুষকে হতে হবে সচেতন। নিজেদের ওজন যেন স্বাভাবিক থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মূলত একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবচেয়ে জরুরি।ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিনের রুটিন 
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেভাবে নিয়মিত জীবনযাপন করা প্রয়োজন,  একজন স্বাভাবিক, নীরোগ মানুষের জন্যেও ঠিক তেমনভাবেই জীবনযাপন করা প্রয়োজন৷ কেননা একটি মানুষ স্বাস্হ্যকর জীবনযাপন করলে তার দেহে রোগ সহজে বাসা বাঁধতে পারে না৷ 
একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রতিদিন একটি সময়ে ব্যয়াম করা খুবই প্রয়োজনীয়।  সেই সাথে সময়মতো স্বাস্হ্যকর খাবার তো আছেই৷ 
ডায়াবেটিস কখনো নিরাময় করা সম্ভব নয়, তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই সহজ বলে গবেষণায় প্রমাণিত।  তাই ডায়াবেটিস রোগী যদি প্রতিদিন রুটিন মাফিক জীবনযাপন করতে পারে তাহলে খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব৷ 
ডায়াবেটিস রোগীকে কখনোই চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না, বরং তাকে ভালো মানের প্রোটিন এবং ফাইবার বা আঁশ যুক্ত খাবার খেতে হবে। যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীদের ঘন ঘন ক্ষুধা পায়,  তাই একটু পর পর অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবেই রোগটি নিয়ন্ত্রণ  করা সম্ভব।  

শেষকথা 

মানুষের সুন্দর এই জীবনকে দূর্বিষহ করে তোলার জন্য শুধু একটি রোগই যথেষ্ট। কেননা কিছু রোগ রয়েছে যেগুলো শরীরে একবার বাসা বাঁধলে সেটি আর কখনোই নির্মূল করা সম্ভব নয়, বরং সারাজীবন সেটি শরীরে বয়ে বেড়াতে হয়। তেমনি একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র।  
এই রোগটি নিয়াময় করা যায়না, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়৷ তাই একজন মানুষের উচিত এই রোগের কবলে পড়তে না চাইলে নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাহ্যকর জীবনযাপন করা। তবেই বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা কমবে৷ সামনের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস থেকে আমরা এই প্রতিজ্ঞা করি যে সারাজীবন সুন্দর এবং স্বাস্থ্যময় জীবনযাপন করবো। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abir Hossain
Md. Abir Hossain
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির সিনিয়র সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।