আমার বিয়ে কবে হবে

আমার বিয়ে কবে হবে এ কথাটি একটু আপেক্ষিক বিষয়। যেমন ধরুন আমার বিয়ে আজও হতে পারে, কালো হতে পারে, কয়েক বছর পরেও হতে পারে আবার কখনো বিয়ে নাও হতে পারে। এটি একদিকে যেমন নিজের ব্যক্তিগত বিষয়, তেমনি এটি একটি ভাগ্যের বিষয়। এই লেখাগুলো পড়লে আমার বিয়ে কবে হবে এই সম্পর্কে একটি ধারণা  পাবেন। আশা করছি এটি আপনার জন্য উপকৃত হবে। চলুন তবে শুরু করা যাক। 


আপনি কি বিয়ে বিষয়ে আগ্রহী?  আপনি কি দ্রুতই বিয়ে করতে চান অথবা আপনি কি কখনোই বিয়ে করতে চান না? আপনার যদি এই চিন্তাগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি মিলে যায় তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। সুতরাং সম্পূর্ণ পোস্টটি  পড়তে থাকুন। বিয়ে শুধু আত্মার মিলনই নয় বরং এটি একটি পারিবারিক মেলবন্ধনও বটে। একটি মানুষকে সারা জীবন বেঁচে থাকতে হলে তার জীবনে বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আছে। 

সূচিপত্র ঃ 


বিয়ে মানে কিঃ 

বিবাহ বা বিয়ে এমন একটি সামাজিক বন্ধন যা দুটি মানুষের মধ্যে ও দুটি পরিবারের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক তৈরি করে। এটি একটি বৈধ ও সামাজিক চুক্তি যা দুটি মানুষকে একসাথে থাকার স্বীকৃতি দেয়। বিবাহের মাধ্যমে মানুষ এমন একটি সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে যায় সেখানে তারা তাদের সুখ দুঃখ সব কিছু ভাগাভাগি করে নিয়ে একত্রে বসবাস করে। 

বিয়ের আরবি পরিভাষা হল নিকাহ। বিয়ে বা নিকাহ পবিত্র একটি সম্পর্ক , যেখানে দুটি পরিবার ও মিলিত হয়। বিয়ের মাধ্যমে দুটি নারী পুরুষ সামাজিকভাবে একত্রে বসবাস শুরু করে । বিয়ে মানে শুধু নারী ও পুরুষের দৈহিক ও আত্মিক মিলন নয় বরং তাদের দুজনের যাবতীয় সম্পর্কের মেলবন্ধন । 


বিয়ে করা কেন প্রয়োজনঃ

বিয়ের মাধ্যমে হৃদয় প্রশান্তি ও মনের স্থিরতা এবং চরিত্রে পবিত্রতা আসে। অন্ন বস্ত্র বাসস্থান খাদ্য ও চিকিৎসা যেমন মানুষের জীবনে অপরিহার্য তেমনি একজন মানুষের সুস্থ জীবন যাপনের জন্য বিয়ের অপরিহার্যতা তেমনই। , ইসলামেও এর গুরুত্ব মর্যাদা ও ফজিলত অপরিসীম। বিয়ের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল বংশগতির ধারা বজায় রাখা। 

সৃষ্টিগত ভাবেই মানুষের মধ্যে কাম ক্ষুধা থাকে। আর সেই ক্ষুধা নিবারণের একমাত্র শুদ্ধ পন্থা হলো বিয়ে। স্বামী স্ত্রী যদি নেক ও সৎ হয় তাহলে তারা একে অপরের জন্য আত্মার প্রশান্তি ও মানবিক সস্থির ছায়া হয়ে বিরাজ করে।


বিয়ে করলে যে সব উপকার হয়ঃ 

বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। এটি রাসুল সাঃ এর সুন্নাত। চারিত্রিক উৎকর্ষতায় বিয়ের ভূমিকা অপরিহার্য। বিয়ে করলে যে ধরনের উপকার হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো স্বামী স্ত্রী একে অপরের যত্ন নিতে পারে। তারা যে কোন বিপদ-আপদে পড়লে বুঝতে পারে যে তাদের জন্য কেউ না কেউ রয়েছে। তবে অবশ্যই জীবনসঙ্গীকে হতে হবে একজন আদর্শ মানুষ। একজন সঠিক মানুষ জীবনসঙ্গী হয়ে আসলে যেমন জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে তেমনি একজন ভুল মানুষ জীবন সঙ্গী হয়ে আসলে জীবন হয়ে ওঠে নরক সমতুল্য। 

আপনি যদি অনেক বেশি রোগা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য বিয়ে একটি সুখবর হতে পারে। কেননা গবেষণায় দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ মানুষই বিয়ের পরে স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে। স্বামী স্ত্রী একে অপরের আদর যত্নের ফলে এটি ঘটতে দেখা যায়। তবে যদি এই সংসারে অশান্তি লেগে থাকে তাহলে এর বিপরীত ঘটনাও দেখা যেতে পারে। 

অনেক সময় বিয়ের পরে মানুষের খারাপ খাদ্যাভাস পরিত্যাগ করতে দেখা যায়। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে, বিবাহিত পুরুষেরা তাদের পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নেশা জাতীয় দ্রব্য অথবা বিভিন্ন ধরনের খারাপ খাদ্যাভাস থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু একজন অবিবাহিত পুরুষ বা সঙ্গীহীন ব্যক্তি তার এই আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থাকে। কারণেই অভ্যাসগুলো একক প্রচেষ্টায় দূর করা খুবই কঠিন একটি বিষয়। 


বিয়ে করার  ক্ষতিকর দিকগুলোঃ 

বিয়ে যেমন পারে একটি জীবনকে সুন্দর শাশ্বত করে গড়ে তুলতে তেমনি এটি মানুষের জীবনকে করে তুলতে পারে দুর্বিষহ। বিয়ের যেসব অসুবিধা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল দায়িত্ব বেড়ে যাওয়া। বিয়ের মাধ্যমে জীবনে নতুন নতুন দায়িত্ব আসে যেমন করা সংসারের খরচ চালানো এছাড়াও সন্তান লালন পালন। অনেক সময় এই দায়িত্ব গুলোর জন্য জীবনে শারীরিক এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। 

এছাড়াও বিয়ের মাধ্যমে একটি মানুষের সাধারণ জীবন যাপনের স্বাধীনতা কিছুটা লঙ্ঘিত হয়। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চলাফেরার সময় বা যে কোন প্রয়োজনে জীবনসঙ্গীর মতামত কেউ প্রাধান্য দিতে হয়। এক্ষেত্রে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি দু'রকম হলে সংসারে নানা ধরনের অশান্তির সৃষ্টি হয়। 

অনেক সময় একে অপরের চাহিদা, মনোভাব বুঝতে না পারার জন্য সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি। এর ফলে পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হতে পারে। বিয়ের পরে যৌথ পরিবারে বসবাস করলেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিয়ের পরে অনেক সময় অর্থনৈতিকভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। সংসার চালানোর জন্য তখন অতিরিক্ত খরচ বা সঞ্চয়ের চাপে পড়তে পারে। মাঝে মাঝে পারিবারিক চাপের কারণেও সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। 


মানুষ বিয়ে না করলে কি হবেঃ

বিয়ের আগে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আমি কি সঠিক মানুষকে বিয়ে করছি কিনা? বিয়ে না করলে আমার কি হবে? এ প্রশ্নগুলো মনে আসা খুবই স্বাভাবিক। কেননা বিয়ে মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি সম্পূর্ণ একটি তকদিরের বিষয়। মানুষ চাইলেই বিয়ে করে ফেলতে পারবে না এবং তার মর্জি মতো যে কোন কিছু করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা তার ভাগ্যের এটি পূর্ব নির্ধারিত করে রেখেছেন। 

বিয়ের মাধ্যমে একটি মানুষের জীবনে পূর্ণতা আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, " যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের  অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।" 

সুতরাং মানুষের জীবনে দিনের পূর্ণতা আনতে বিয়ের ভূমিকা পড়িহার্য। বিয়ে করা না করার তো সেখানে প্রশ্নই আসে না। বর্তমান সমাজের নারী পুরুষেরা বিয়ের ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। এর কারণ তাদের ইসলামের জ্ঞানের অপরিপক্কতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা। একজন উত্তম জীবন সঙ্গী খুঁজে বিয়ে করা সবচেয়ে ভালো। 

একটি মানুষ সারা জীবন বিয়ে না করার ফলে সে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারে। তার নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় হতে পারে। বিয়ে না করে সুন্নত পরিত্যাগের কারণে তার গুনাহ হতে পারে। 


বিয়ে সম্পর্কে ইসলাম কি বলেঃ 

ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যা একজন মানুষের দ্বীনের পরিপূর্ণতা আনে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি মানুষকে বিবাহ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, " হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে তারা যেন বিবাহ করে। কেন না বিবাহ তার দৃষ্টিকে সমযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে। আর যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে; কেননা, সাওম তার যৌন তাকে দমন করবে।"


বিয়ে একজন নারী বা পুরুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিয়ে ছাড়া আমাদের জীবন আনন্দময় পাওয়া বা পরিপূর্ণতা লাভ করা কঠিন। তাই মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন এবং আমরা যে বিয়ের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে পারব সে কথাও বলেছেন। 

 মহান রব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমে এ সম্পর্কে বলেন, " আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে নিজের সৃষ্টি করেছেন, । যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাকো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন"। (সূরা রুমঃ আয়াত ২১)

স্বামী স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। একজন ব্যতীত অন্যজনের চলা কষ্টকর। আর এই বিষয়টিকে বুঝানোর জন্য মহান রাব্বুল আলামিন বলেছেন, " তারা(স্ত্রীগণ) তোমাদের পোশাক এবং তোমরা() স্বামীগন তাদের পোশাক স্বরূপ।" (সূরা বাকারাঃ আয়াত ,১৮৭) 

বিয়ে তখনই আমাদের সুখ এবং শান্তি নিয়ে আসবে যখন সেই বিয়ে হবে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক যেখানে কোন পশ্চিমা কৃষ্টি কালচার থাকবে না। কিন্তু বর্তমানে ইহুদী-খ্রিস্টানদের বিয়ের প্রথাগুলোই মুসলিম সমাজের অনেক বেশি প্রচলিত হয়ে গেছে। যার ফলে বিবাহের কিছুদিন পরেই দেখা যায় অনেক বিবাহ বিচ্ছেদ। 

আজ মানুষ বিয়ে করে থাকে ঠিকই, কিন্তু সেখানে থাকে না কোন ইসলামের রীতিনীতি কোন শরীয়ত। যার কারণে বিয়েতে থাকে না কোন বরকত এবং থাকে না সংসারে প্রশান্তি। তাই বিয়ে যেহেতু পবিত্র একটি জিনিস সেজন্য কুরআন এবং হাদিসের আলোকে এটি পালন করা উচিত।


আমি কয়টি বিয়ে করতে পারবঃ 

মানুষ কি বেশি বিয়ে করতে পারে? নাকি এটি একটি মিথ্যাচার? চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

পুরুষের জন্য একাধিক স্ত্রী জায়েজ হলেও নারীদের জন্য একাধিক স্বামী গ্রহন নাজায়েজ। এর বেশ কিছু কারণ হয়েছে। নারীকে আল্লাহতায়ালা গর্ভধারণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যেহেতু পুরুষ গর্ভধারণ করে না সুতরাং কোন নারী যদি একাধিক পুরুষের সঙ্গে মিলিত হবার পরে গর্ভধারণ করে তাহলে সন্তানের পিতৃ পরিচয় জানা সম্ভব নয়। এতে করে বংশধারায় সমস্যা হবে এবং পরিবারগুলো ভেঙে পড়বে, শিশুদের লালন পালন এবং গ্রহণ ফসলের ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

ইসলামী শরীয়তে পুরুষদের জন্য একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তবে এর কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো্‌ পুরুষকে তার স্ত্রীর জন্য সঠিক বরণ পোষণ আবাসন এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপনকে নিশ্চিত করতে হবে এবং এসবের মধ্যে পূর্ণ সমতা থাকতে হবে। আর যদি এই শর্তগুলো পালন করতে না পারে, তাহলে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ হবে না। আবার নারীরা তাদের স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পরে নতুন স্বামী গ্রহণ করতে পারবেন। 

পুরুষদের একাধিক স্ত্রীর বৈধতা সম্পর্কে আল কুরআনে বলা হয়েছে, " তোমরা যেসব নারীর সঙ্গে বিবাহ করতে চাও তাদের মধ্যে যাকে তোমরা পছন্দ কর-দুই, তিন অথবা চারজন। তবে তুমি যদি মনে করো যে, সবার সঙ্গে সমতা বজায় রাখতে পারবে ন্‌ তাহলে একটাই স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে কর।" (সূরা নিসাঃ আয়াত ৩) 

আপনি যদি নারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য একটি বিবাহই জায়েজ। তবে আপনার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে আপনি করতে পারবেন। আর আপনি যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য বহুবিবাহ জায়েজ। 


আমার বিয়ে কবে হবে সেই সম্পর্কে জানা সম্ভব কিনাঃ

আমার বিয়ে কবে হবে এ প্রশ্নটি করা কখনই উচিত নয়। কেননা এটি সম্পূর্ণ আমাদের তকদির বা ভাগ্যের বিষয়। আমাদের বিয়ে কবে কোথায় কখন হবে সেটি পূর্ব নির্ধারিত। এটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া মানে আমাদের ভাগ্যের উপর আঙ্গুল তোলা। 

একটি মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে,  রিজিক সবকিছুই আল্লাহ আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। তবে অনেকেই কৌতুহলবশত এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান যে আমার বিয়ে কবে হবে। এই বিষয়ে জ্যোতিষ শাস্ত্রে সমাধান দেওয়া হয়েছে। জ্যোতিষীরা হাত গণনা করে বা রাশি মিলিয়ে বিয়ে কবে হবে সে সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়ে থাকেন। তবে সব সময় যে এটি সম্পূর্ণ মিলে যাবে এমনটি নয়। যেহেতু বিয়ে সম্পূর্ণ ভাগ্যের একটি বিষয় সেহেতু এটি কখন হয় সেটি বলা সম্ভব নয়। আল্লাহ যখন যার কপালে বিয়ে রেখেছে তখনই তার বিয়ে হবে। 


আমার বিয়ে কার সাথে হতে পারেঃ 

আমার বিয়ে কার সাথে হতে পারে এ বিষয়টি বলা খুবই কঠিন। কারণ এটিও সম্পূর্ণ ভাগ্যের একটি বিষয়। তবে আপনি যদি কাউকে পছন্দ করে থাকেন তাহলে তাকে বিয়ে করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার সাথে যে আপনার বিয়ে হবেই সেটি বলা যাচ্ছে না। 

অনেক সময় দেখা যায় পাত্র পাত্রী বিয়েতে বসলেও অনেক কারণবশত বিয়ে ভেঙে যেতে পারে। তকদিরে যার সাথে যার বিয়ে রয়েছে তার সাথেই তার বিয়ে হবে। এই সম্পর্কটি পূর্ব নির্ধারিত। । তাই বিয়ে কার সাথে হতে পারে এই বিষয়ে বলা কখনোই সম্ভব নয়। 


আমার কত বছর বয়সে বিয়ে হতে পারেঃ 

প্রতিটি দেশে এই বিয়ের জন্য একটি বয়স সীমা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও নারী এবং পুরুষদের জন্য যে বিয়ের বয়সসীমা করা হয়েছে তা হলঃ মেয়েদের জন্য ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছর। এই বয়সের নিচে বিয়ে হলে সে বিবাহকে বাল্যবিবাহ বলা হয়ে থাকে। দেশে বাল্যবিবাহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে অনেক ছেলেমেয়েরাই অল্প বয়সে বাবা-মার অনুমতি ব্যতীত পালিয়ে বিয়ে করে থাকে, যেটি ইসলাম শরীয়ত মোতাবেক নাজায়েজ জ এবং সমাজের চোখেও গর্হিত একটি কাজ। 

আপনি যদি অবিবাহিত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিত মেয়ে হলে আঠারো বছর এবং ছেলে হলে ২১ বছর বয়সের পরে বিয়ে করা। বিয়ের জন্য যে মন মানসিকতা যে দায়িত্ববোধের প্রয়োজন হয় সেটি মেয়েদের জন্য ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছরের আগে আসে না। একটি মানুষকে বিয়ে করার জন্য তার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া জরুরী। কেননা বিয়ে শুধু দুইটি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নয় এটি দুইটি পরিবারের মধ্যেও একটি সম্পর্ক। এবং এ সম্পর্কে বিভিন্ন দায়িত্ববোধ কর্তব্য প্রয়োজন হয়ে থাকে। এর দেশে বিয়ের পরে মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়িতে চলে যেতে হয়, ফলে তার একটি মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন হয়। 

আপনি যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিত দ্রুতই বিয়ে করে নেওয়া। এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হওয়ার জন্য যে বয়স সীমা প্রয়োজন তা হল 21 থেকে 30 বছর। 


বিয়ে কবে হবে সেটা জানার উপায়ঃ 
বিয়ে কবে হবে সেটা সম্পর্কে জানা কিছুটা কঠিন বিষয়। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ ভাগ্যের একটি বিষয় তাই বিয়ে কবে হবে সেটা জানা সম্ভব নয়।। তবে যদি আপনার বিয়ের কথা পাকা হয়ে থাকে তাহলে আপনার বিয়ের তারিখ আপনি জানতে পারেন। তো সেই তারিখেই যে আপনার বিয়ে হবেই সেটি বলা যাবে না। কেননা আপনার ভাগ্যে যদি সেদিন বিয়ে না থাকে তাহলে সেদিন বিয়েটা হবে না। 
। বিয়ে কবে হবে সেটা জানার জন্য জ্যোতিষ শাস্ত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে। জ্যোতিষরা হাত গণনা করে এবং রাশি গণনা করে বিয়ের সময় নির্ধারণ করে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মে বিয়ের সময় জানার কিছু রীতিনীতি রয়েছে। 

বিয়ের পরে কিভাবে ঝগড়া না করে থাকা যায়ঃ
 মানুষ সামাজিক জীব। আর মানুষের সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিয়ে করে মানুষ সুন্দরভাবে সংসার করে এবং তার জীবন অতিবাহিত করে। । এই সুন্দর একটি সম্পর্কে অনেক সময় ঝগড়া-বিবাদ দেখা যেতে পারে। যে কাজগুলো করলে বিয়ের পরে ঝগড়া না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি সেগুলো হলঃ 
স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রশংসা করা
একে অপরের যত্ন নেওয়া
 একে অপরকে সাহায্য করা
একে অপরের মাঝে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়া
দিনের কিছু সময় একে অপরকে সময় দেওয়া
একে অপরের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করা
কোন কিছুতে একে অপরকে জোর না করা ইত্যাদি। 


বিয়ে করলে কি মানুষ মোটা হয়ে যায়ঃ




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abir Hossain
Md. Abir Hossain
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির সিনিয়র সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।