কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন

 কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন সেটি সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে এই পোস্টটি অবশ্যই পরা উচিত।  আপনি কি মেহেদী পরতে পছন্দ করেন? যদি পছন্দ নাও করে থাকেন তাহলে আজকের পর থেকে আপনার হয়তো ভালো লাগবে। 

কেনো-আপনি-হাতে-অরগানিক-মেহেদী-পরবেন

মেহেদী হলো বাংলাদেশের প্রতিটি নারীদের আবেগের জায়গা৷ আপনিও যদি একটি মেয়ে হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে এটি পড়তে হবে। আশা করছি এই পোস্টটি আপনার জন্য উপকারী হবে। চলুন তবে শুরু করা যাক। 

পোস্ট সূচীপত্র: কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন

কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন 

বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামী রীতি মোতাবেক মানুষেরা জীবনযাপনের চেষ্টা করে থাকে। রাসূলের সুন্নাত পালনের জন্য মহিলারা হাতে মেহেদী দিয়ে থাকে। আমাদের দেশের নারী পুরুষেরা ও এই দিক দিয়ে কম নয়। 

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম হওয়ায় তারা রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী মেহেদী পড়তে পছন্দ করে।  তবে মুসলিম না হলেও বেশিরভাগ মানুষই মেহেদি পরা সৌখিনতা হিসেবে নেয়। এটি আমাদের দেশের একটি কালচার বলা চলে।  

মেহেদি পরার মধ্যেও ধৈর্যের প্রয়োজন।  একটি সুন্দর টেস্ট দিয়ে সুন্দর করে মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজাইন করলে সেটি  ফুটে ওঠে।  মেহেদী মূলত সেটাকে বলা হয় যেটি হাতে লাগালে হাতের ডিজাইনগুলোর রং উজ্জ্বল হয়ে থাকে এবং হাতকে সুন্দর দেখায়।  

মেহেদী পড়ার বেশ কিছু কারণ থাকে ।এগুলোর মধ্যে অন্যতম কিছু কারণ হলো বিয়ে-শাদী,  বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান, অথবা কোন কারণ ছাড়াই মেহেদি পরা হয়।  মেয়েরা মেয়েদের পড়তে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে থাকে।  তবে বর্তমানে অনেক ছেলেদের কেউ মেহেদি পরিয়ে দিতে দেখা যায় যেটা তারা শখের বসে করে থাকে।  

আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে,  কোন মেহেদি হাতের জন্য ভালো?  আপনি কি ইনস্ট্যান্ট মেহেদী হাতে পড়বেন?  কেন আপনি হাতে অর্গানিক মেহেদী পরবেন?  আপনার এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখানে পাবেন।  তাই পড়তে থাকুন।  

প্রতিটি মুসলিমেরই জানা আছে যে মেহেদি পরা একটি সুন্নাত।  কেননা ইস নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ, তিনি নিজের দাড়ি এবং চুলে মেহেদি ব্যবহার করতেন।  তিনি মহিলাদেরকে হাতে মেহেদি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  মহিলাদের হাতের মেহেদি পড়ার নির্দেশ দেওয়ার পেছনে একটি ঘটনা  রয়েছে।  সেটি হলো, 

"একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাড়ির দরজার পেছন থেকে একটি জিনিস চাইলেন।এরপরে ঘরের ভেতর থেকে কেউ হাত বাড়িয়ে সেই জিনিসটি নবীজির হাতে দিতে গেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বুঝতে পারলেন না যে হাতটি পুরুষ নাকি মহিলার।  যেন পর্দার খেলাফ না হয় সেজন্য তিনি মহিলাদেরকে বলেছেন হাতে যেন তারা মেহেদী পরে, এতে করে আর দেখলে বোঝা যাবে যে তারা মহিলা এবং পর্দা করা সহজ হবে।" 

আমাদের দেশে কিরভাগ মানুষই মেহেদি হাতে দিতে পছন্দ করে।  বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু হল রঙিন মেহেদী, যেগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।  এগুলোর রং দেওয়ার সাথে সাথে হাতে লেগে যায়।  

আবার কিছু মেহেদী রয়েছে যেগুলো গাছের পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। এই মেহেদী সবচেয়ে উত্তম। এতে কোনো ক্ষতিকর পদার্থ নেই।  তাই এটি হাতে লাগালে কোন ধরনের ক্ষতি হবে না।  কিন্তু এই গাছের পাতাটি হট জায়গায় পাওয়া যায় না।  তাই বলে কি মেহেদি পরা বন্ধ হয়ে যাবে?  

অবশ্যই নয়।  এ বিকল্প কিছু পদ্ধতি রয়েছে।  মূলত মেহেদী তৈরি করা হয় গাছের পাতা ভালো করে শুকিয়ে এরপরে গুঁড়ো করা হয়।  তারপর সেই গুরুর সাথে মেশানো হয় লেবুর রস, চিনি ও ইসেনশিয়াল ওয়েল।  এইগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে সারারাত রেখে আবার সুন্দরভাবে মেশাতে হয়।  এরপরেই তৈরি হয়ে যায় একটি অর্গানিক মেহেদী।  

কেন আপনি হাতে অর্গানিক মেহেদি পরবেন?  এটি তো তৈরি করাও ঝামেলা তাই না?  ঝামেলার হলেও এই পদ্ধতিতে মেহেদী বানালে আমাদের ত্বকের কোন ক্ষতি হয় না এবং রংটাও হয় সুন্দর।  এই মেহেদীর রং হাতে আসতে অনেক সময় লাগে।  ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাতে সম্পূর্ণ রং আসে।  তাই এই মেহেদি সকলে পরতে চায় না।  

কিন্তু এই মেহেদী আমাদের জন্য কোন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না।  বরং এটি ব্যবহার করা আমাদের জন্য উপকারী।  বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেহেদী পাওয়া গেলেও অর্গানিক মেহেদির চাহিদা বর্তমানে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  এর কারণ হলো মানুষ দিন দিন স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে যাচ্ছে।  

বাজারে পাওয়া মেহেদী গুলোর মধ্যে মেহেদী গুলোর রং হাতে দেওয়ার সাথে সাথেই চলে আসে এই মেহেদী গুলো আমাদের ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর।  কারণ এইগুলোতে অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়।  অনেক সময় এতে এসিড বেশি থাকার জন্য আমাদের ত্বক পুড়ে যেতে পারে।  

গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অনেক মেহেদী আছে যেগুলো ব্যবহার করে অনেকের হাত পুড়ে গিয়েছে। আবার সেই মেহেদী গুলোর রং তাতে যেমন খুব তাড়াতাড়ি বসে সেটি হাতে স্থায়ী হয় না।  ফলে যদি অনুষ্ঠান দুই তিন দিনের হয় সেখানে সে মেহেদী গুলো টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন।  

অর্গানিক মেহেদী হলো এদিক দিয়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর একটি সমাধান।  কেননা এই মেহেদীতে নেই কোন ক্ষতি করে দিক,  নেই কোনো স্বাস্থ্যের ঝুঁকি।  তবে দেরি কেন! আজি মনে মনে পণ করুন, আর নিজের ক্ষতি করবেন না।  

কেনো-আপনি-হাতে-অরগানিক-মেহেদী-পরবেন

অরগানিক মেহেদী যেভাবে তৈরী করা হয়

মেহেদী আমাদের দেশের প্রতিটি মেয়ের কাছে একটি ভালো লাগার জায়গা।  এটি তাদের মানসিকভাবে প্রশান্তি এনে দেয় এবং সৌন্দর্যের দিক দিয়ে উন্নত করে। এটির মাধ্যমে হাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।  কারণ এটি দিয়ে সুন্দর করে হাতে ডিজাইন করা যায় পরবর্তীতে সেটি লাল রঙ হয়ে ফুটে ওঠে।

কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন সেটি নিয়ে কি এখনো চিন্তা করছেন?  আর নয় চিন্তা!  বানানোর প্রসেস গুলো নিচে ধাপে ধাপে  বর্ণনা করা হলো : 

প্রথমত গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা হয় 

সবগুলো পাতাকে রোদে শুকিয়ে নেয়া হয় 

পাতাগুলোকে গুঁড়ো করা হয় 

এরপরে গুঁড়োর সাথে লেবুর রস মেশানো হয় 

সেটির সাথে এরপরে চিনি মেশানো হয় 

সেগুলোকে ভালোভাবে মিশিয়ে এরপরে সেখানে এসেনশিয়াল অয়েল মেশানো হয়।  

সবগুলোকে ভালো করে মিক্স করে সারারাত ঢেকে রেখে দিতে হয়।  

এরপর সকালবেলা আবার সেগুলোকে ইলেকট্রিক  বিটারের সাহায্যে মেশানো হয়। 

এভাবেই তৈরি করা হয় অর্গানিক মেহেদী।  পরবর্তীতে সেগুলো ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের একটি করে কোন তৈরি করে সেখানে তোলা হয়।  তারপরে সেগুলো বাজারে বিক্রি করা হয়।  অর্গানিক মেহেদির বিশেষত্ব হলো এটি যেহেতু সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত একটি প্রোডাক্ট, তাই এটি কে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়।  নতুবা এর গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে রং হয় না। 

এভাবেই ধাপে ধাপে তৈরি করা হয় একটি অর্গানিক মেহেদী।  যেটি তৈরি করা খুবই সময় সাপেক্ষ বিষয়।  কিন্তু এটি আমাদের সকলের জন্য খুবই উপকারী।  

হাতের জন্য কোন ধরনের মেহেদী ভালো 

বেশিরভাগ মেয়েরাই হয় সৌন্দর্য প্রেমী।  তারা নিজেদেরকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করে। এই দিক দিয়ে তাদের হাত কেও তারা সুন্দরভাবে সাজাতে পছন্দ করে। হাতকে সাজানোর জন্য মেহেদী  যথেষ্ট। কারণ এটি দিয়ে হাতে বিভিন্ন ধরনের সুক্ষ ডিজাইন করা যায়। 

অলংকার ছাড়াই যে একটি হাতকে সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো যায় উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ হলো মেহেদী।  এখন আপনার জানা প্রয়োজন হাতের জন্য কোন ধরনের মেহেদি সবচেয়ে ভালো? কেনই বা আপনি হাতে ইনস্ট্যান্ট মেহেদী পড়বেন?  অথবা কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন? 

এখন দুইটি মেহেদির মধ্যে পার্থক্য করে দেখা যাক যে,কোন মেহেদী আমাদের হাতের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো।  প্রথমেই আসা যাক ইন্সট্যান্ট মেহদীর দিকে৷ আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের,  বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন কোম্পানির মেহেদী পাওয়া যায়। এগুলোর জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে অনেক৷ 

ইন্সট্যান্ট মেহেদী গুলোর দাম ও মোটামুটি কম বলা চলে। তাই সাধারণ মানুষের এটি বেশ পছন্দের। তবে এটি দিয়ে নিখুঁত নকশা করাও কঠিন এবং একবার কোথাও লাগলে সাথে সাথে সেটির কালার বসে যায়৷ 

এইবারে আসি অর্গানিক মেহেদীতে। এই মেহেদী দিয়ে একদিকে যেমন নিখুঁত নকশা করা যায় তেমনি এটির কালার হয় সুন্দর ও টেকসই৷ এই কারণেই হোক না কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন। অরগানিক মেহেদী বর্তমানে সকল মেয়েদের কাছে বেশ জনপ্রিয়৷ 

তবে বুঝলেন তো? কোন মেহেদী আপনার জন্য উপকারী?  অবশ্যই অরগানিক মেহেদী৷ কেননা এটি ব্যবহারে ত্বকে কোনো সমস্যা হয়না এবং এর রঙ ও দীর্ঘস্হায়ী৷ সেই সাথে এটির সাহায্যে হাতে নিখুঁত নকশা করা যায়৷ 

কালার মেহেদীর ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি 

প্রতিটি মুসলিম দেশগুলোতে নারীরা মেহেদী পরতে অভ্যস্ত।কেননা এটি মুসলিমদের জন্য সুন্নাত। তাই সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যে অনেকেই মেহেদী পরে থাকে৷ আপনি যদি আপনার হাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মেহেদী পরে থাকেন,  তবুও মনে মনে সুন্নাত পালনের নওয়ত করুন৷ তাহলে মেহেদী দিয়ে হাত রাঙানোর বিনিময়ে পেতে পারেন আল্লাহর রহমত ও বরকত। 

কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন সেটি সম্পর্কে এর পূর্বে নিশ্চয় জেনেছেন। কালার মেহেদী এবং অরগানিক মেহেদীর মধ্যে আপনার কোনটি বেছে নেওয়া উচিত এটিও হয়তো এতোক্ষণে বুঝে গিয়েছেন৷ চলুন তবে জেনে নিই কালার মোহেদী ব্যবহারে যেসব ক্ষতি হতে পারে: 

প্রথমত এটি আমাদের ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। 

এটি সম্পূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যাদি দিয়ে তৈরী হওয়ায় ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। 

এটির রঙ ও খুব দ্রুত হাতে লেগে যাওয়ার ফলে যেকোনো নকশা খুব সাবধানতার সাথে করতে হয়। 

কালার মেহেদীর রঙ পানি লাগলে খুব তাড়াতাড়ি উঠে যায়৷ 

হাতের ওপর এটি একটি আস্তরণ তৈরী করে। 

কেন অরগানিক মেহেদী ব্যবহার করা দরকার 

মেহেদী হলো এমন একটি জিনিস যা একটি মানুষ তার হাতে পায়ে একটি থকথকে পদার্থের প্রলেপ দিয়ে বিভিন্ন নকশার মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে থাকে৷ এই মেহেদী শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয় বরং রাসূলের সুন্নত পালনেও সাহায্য করে।  

আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো আমাদের ত্বক।  এই ত্বকের যত্নে আমরা কতোকিছুই না করে থাকি। গরমের সময় সানস্ক্রিন থেকে শুরু করে শীতকালে লোশান, কতো কিছুই না ব্যবহার করি। এই সুন্দর ত্বক যদি হঠাৎ করো নষ্ট হয়ে যায়! তাহলে কেমন লাগবে? 

নিশ্চয়ই দুঃখে মাটির সাথে মিশে যেতে মন চাইবে! আপনি যেমন আপনার ত্বকের সুরক্ষা চান তেমনি অবশ্যই চান এটিকে সবসময় সুন্দর দেখাতে। তাই আমাদের শরীরের হাত ও পায়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে মেহেদীর জুড়ি মেলা ভার। 

এবার আসুন মেহেদী কোনটি ব্যবহার করবেন?  বাজারে বিভিন্ন ধরনের মেহেদী পাওয়া গেলেও অর্গানিক মেহেদীর মতো আর কোনো কিছুর বিকল্প নেই৷ কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন? এটি ছাড়া তো অন্যগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে! 

অবশ্যই সবগুলোই ব্যবহার করা যায়। তবে আমরা নিশ্চয় আমাদের ক্ষতি করতে চাইবোনা। আর তা যূি না চাই তাহলে অর্গানিক মেহেদী হবে আমাদের জন্য সর্বোত্তম মেহেদী।  এবারে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন? 

এর কারণগুলো হলো: 

  • এটি ব্যবহারে ত্বকে কোনো ক্ষতি হয়না। 
  • এটি দিয়ে সহজেই সুন্দর করে নিখুঁত নকশা করা যায়।  
  • এটি হাতে লাগলে রঙ সাথে সাথে লেগে যায় না৷ 
  • এই মেহেদীর রঙ হাতে দীর্ঘসময় ধরে থাকে। 

তবে অর্গানিক মেহেদীর এতোগুলো ভালো দিক থাকলেও শুধু একটিই দুঃখের বিষয় রয়েছে। সেটি হলো, এই মেহেদী ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয় এবং ব্যবহারের ১০ মিনিট পূর্বে সেটি বের করে নরমাল করে নিতে হয়। আমাদের দেশের অনেক পরিবারেই ফ্রিজ না থাকায় তারা এই মেহেদী সংরক্ষণ করতে পারেনা। 

এইসব কারণে অনেকেই এই মেহেদী ব্যবহার করে না। কিন্তু এই একটি মাত্র বিষয় ছাড়া এই মেহেদীর আর কোনো খারাপ দিক খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তাই কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন সেটি হয়তো জানতে পারলেন। 

মেহেদী পরা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে 

ইসলাম শান্তির ধর্ম।  এই ধর্মে সৌন্দর্যেরও অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী,  প্রতিটি মুসলিম নারীর হাতে মেহেদী পরা সুন্নত। এটি আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের জন্য সওয়াবও বয়ে নিয়ে আসে। 

তবে মুসলিমদের জন্য নির্দেশনা হলো, মেহেদী শুধু নারীদের হাতে পায়ে লাগানো যায়। কিন্তু এটি পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ।  কেননা এটি নারীদের সাজসজ্জার বিষয়। তবে পুরুষদের জন্য চুলে ও দাঁড়িতে  মেহেদী লাগানোর অনুমতি রয়েছে।  কারণ আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) তাঁর চুল, দাঁড়িতে মেহেদী লাগাতেন। 

হাদীসে পাওয়া যায়, "একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাড়ির দরজার পেছন থেকে একটি জিনিস চাইলেন।এরপরে ঘরের ভেতর থেকে কেউ হাত বাড়িয়ে সেই জিনিসটি নবীজির হাতে দিতে গেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বুঝতে পারলেন না যে হাতটি পুরুষ নাকি মহিলার। যেন পর্দার খেলাফ না হয় সেজন্য তিনি মহিলাদেরকে বলেছেন হাতে যেন তারা মেহেদী পরে, এতে করে আর দেখলে বোঝা যাবে যে তারা মহিলা এবং পর্দা করা সহজ হবে।" 

সুতরাং মহিলাদের জন্য সবসময় মেহেদী দিয়ে হাত রাঙিয়ে রাখা উত্তম।  তবে পুরুষদের বেলায় এটি নিষিদ্ধ।  

কেনো-আপনি-হাতে-অরগানিক-মেহেদী-পরবেন

অরগানিক মেহেদী দাম কেমন 

আপনি যদি একজন  মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনি মেহেদীর বিধান সম্পর্কে জেনে থাকবেন৷ কেননা এটি প্রতিটি মুসলিম নারীদের জন্য একটি সুন্নত।  সেই সাথে পুরুষদের চুল, দাঁড়িতে ব্যবহার করাও সুন্নত।  

আপনি হাতে মেহেদী পরতে গেলে আপনার মেহেদীর দাম সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন৷একেকটি মেহেদীর দাম বাজারে একেক রকম। আবার কিছু মেহেদী বাজারে পাওয়াও যায় না সহজে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক! আশা করছি আপনি উপকৃত হবেন। 

আমাদের দেশের বাজারগুলোতে কালার মেহেদীর প্রচলনই সবচেয়ে বেশি। এগুলো মোটামুটি সাশ্রয়ীও হয়ে থাকে৷ কালার মেহেদী গুলো ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে৷ কিন্তু অন্যদিকে আমাদের পছন্দের অর্গানিক মেহেদী বাজারে সহজে পাওয়া যায় না। 

অর্গানিক মেহেদীগুলো বাজারে না পাওয়ার প্রধান কারণ হলো এর সংরক্ষণ পদ্ধতি।  এটি বাসায় তৈরী করে অনেকে বিক্রি করে থাকে৷ বিভিন্ন অনলাইন পেজে এই মেহেদী খুব সহজেই পাওয়া যায৷ এই মেহেদী গুলো ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় অনলাইন পেজগুলোতে পাওয়া যায়। 

শেষকথা 

আমরা যেহেতু মুসলিম দেশে বাস করি সেহেতু  মুসলিমদের রীতিনীতি আমাদের সবসময়ই মেনে চলার চেষ্টা করা হয়। ইসলাম ধর্ম শান্তি এবং সৌন্দর্যের প্রতীক। এই ধর্মে নারীদেরক হাতে মেহেদী পরে রাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে বেশিরভাগ মানুষই মেহেদী পরার দিকে আগ্রহ দেখায়। 

আমাদের উচিত নিজেদের শরীরের যত্ন নেওয়া এবং সেই সাথে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা করা। মেহেদী ব্যবহার করলে এটি খুব সহজেই করা যায়। কিন্তু কালার মেহেদী হাতে পরবেন? নাকি কেনো আপনি হাতে অরগানিক মেহেদী পরবেন?  এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিশ্চয় বর্ণনায় পেয়েছেন।  

আশা করছি এই পোস্টটি আপনার জীবনে কোনো না কোনো জায়গায় কাজে লাগাতে পারবেন৷পরিশেষে বলবো,  নিজের শরীরের যত্ন নিন, সুন্দর থাকুন এবং সকলকে সুন্দর রাখুন। ধন্যবাদ। 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abir Hossain
Md. Abir Hossain
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির সিনিয়র সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।